মুরাদ খান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রতিবন্ধী চাচা হোসেন মিয়ার বাড়ি দখলে নিতে ঘরের ভেতর ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে চাই ভাতিজা সাব্বির মিয়া(১৮)। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী হোসেন মিয়া ভাতিজা সাব্বির মিয়া, তার মা রেখা আক্তারসহ ৪জনকে আসামি করে সরাইল থানায় অভিযোগ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টায়
উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাব্বির মিয়া প্রতিবন্ধী হোসেন মিয়ার আপন বড় ভাই প্রবাসী কাশেম মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) সরে জমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী হোসেন মিয়া, প্রতিবেশি আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীর মিয়ার সাথে কথা বলে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত রবিবার (২৯ মার্চ) ভাতিজা সাব্বির মিয়া দা নিয়ে হোসেন মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য। এসময় তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ,জাহাঙ্গীর মিয়াসহ কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে তাকে বাঁচায়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হোসেন মিয়া।
প্রতিবন্ধী হোসেন মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জানান, আমার ভাসুর প্রবাসী কাশেম মিয়া বিত্তশালী লোক। তার স্ত্রী রেখা আক্তার ও ছেলে সাব্বির মিয়া গত বছর জোর করে আমার স্বামী প্রতিবন্ধী হোসেন মিয়ার জায়গায় পাকা গোসলখানা ও টয়লেট নির্মাণ করে ব্যবহার করছে। এই গোসলখানা ও টয়লেট আমার স্বামীর জায়গাতে নির্মাণ করা হলেও আমাদেরকে ব্যবহার করতে দেয় না। কাশেম মিয়ার স্ত্রী-পুত্র চাইছে আমার প্রতিবন্ধী স্বামী ও আমাকে এবাড়ি থেকে তাড়িয়ে তারা পুরো বাড়ি দখল করে বিল্ডিং তৈরি করতে। আমরা এই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি হয়না বিধায় তারা দু-একদিন পরপরই আমাদেরকে ঘরবন্দী করে রাখে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গালাগালি মারামারিসহ বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। এই অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী হোসেন মিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রেখা আক্তার কাছে জানতে চাইলে শিকার করে বলেন, আমি আমার দেবরের জায়গায় গোসলখানা ও টয়লেট নির্মাণ করেছি সত্য। আমরা মিলেমিশে ব্যাবহারও করতেছি। এগুলো নির্মান করার সময় আমার দেবর বলছিল ঐজায়গা আমাদেরকে দিয়ে দিবে। তারা পাশের জায়গা চলে যাবে,কিন্তু এখন তারা জায়তেছে না। তবে আমার ছেলে সাব্বিরের ব্যাপারে যে অভিযোগ করছে তা সম্পন্ন মিথ্যা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে এখন জানলাম। খোঁজ খবর নিয়ে এবং দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শেষ করার চেষ্টা করব।
এব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদির ভুইয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন হয়ে থাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনব।
